গর্ভাবস্থায় কি খাবার খেলে বাচ্চার ওজন বাড়ে?

গর্ব অবস্থায় বাচ্চার ওজন বাড়াতে কি খাবেন?-এটি গর্ভবতী মায়েদের একটি খুব সাধারণ প্রশ্ন।গর্বের শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য মায়ের পর্যাপ্ত প্রোটিন,ক্যালসিয়াম, আয়রন,ফোলিক অ্যাসিড ভিটামিন চর্বি ও পর্যাপ্ত ক্যালরির প্রয়োজন হয়।তবে শুধু বেশি খাবার খেলেই শিশুর ওজন বাড়বে এমন নয়।

গর্ভাবস্থায় বাচ্চার ওজন বাড়াতে কি খাবেন?

শিশুর বৃদ্ধি ও মায়ের সুস্থতার জন্য প্রতিদিন খাবারের বিভিন্ন খাদ্যের এবং পুষ্টিকর খাবার রাখা উচিত।নিচে খাদ্য তালিকা দেওয়া হলো:

গর্ভাবস্থায়-কি-খাবার-খেলে-বাচ্চার-ওজন-বাড়ে


  • পোস্টের সূচিপত্র:

১. ডিম

ডিমে উচ্চমানের প্রোটিনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান রয়েছে। গর্ভাবস্থায় ভালোভাবে রান্না করা ডিম খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। প্রোটিন শিশুর শরীরের বিভিন্ন টিস্যু গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

২. দুধ ও দই

দুধ, দই ও অন্যান্য পাস্তুরিত দুগ্ধজাত খাবার থেকে ক্যালসিয়াম ও প্রোটিন পাওয়া যায়। ক্যালসিয়াম শিশুর হাড় ও দাঁতের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ

৩. মাছ

মাছ ভালো মানের প্রোটিনের পাশাপাশি কিছু মাছ থেকে উপকারী ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড পাওয়া যায়। তবে গর্ভাবস্থায় মাছ নির্বাচন ও রান্নার ক্ষেত্রে নিরাপদ খাদ্যবিধি মেনে চলা জরুরি। কাঁচা বা অপর্যাপ্ত রান্না করা মাছ এড়িয়ে চলুন।

৪. মাংস ও মুরগি

ভালোভাবে রান্না করা মাংস ও মুরগি প্রোটিন ও আয়রনের ভালো উৎস। আয়রন শরীরে রক্তকণিকা তৈরিতে সাহায্য করে এবং গর্ভাবস্থায় এর চাহিদা বেড়ে যায়।

৫. ডাল, ছোলা ও মটরশুঁটি

যারা উদ্ভিজ্জ উৎস থেকে প্রোটিন নিতে চান, তাদের জন্য ডাল, ছোলা, মটরশুঁটি ও অন্যান্য ডালজাতীয় খাবার ভালো বিকল্প। এগুলোতে প্রোটিন, ফাইবার ও বিভিন্ন খনিজ উপাদান থাকে।

৬. বাদাম ও বীজ

চিনাবাদামসহ বিভিন্ন বাদাম ও বীজে প্রোটিন এবং স্বাস্থ্যকর চর্বি রয়েছে। পরিমাণমতো বাদাম খাবারের পুষ্টিমান বাড়াতে পারে। তবে কারও বাদামে অ্যালার্জি থাকলে অবশ্যই এড়িয়ে চলতে হবে।

৭. শাকসবজি

পালং শাকসহ বিভিন্ন সবুজ শাক এবং অন্যান্য রঙিন সবজি ভিটামিন, মিনারেল ও ফাইবারের ভালো উৎস। প্রতিদিন বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি খাওয়ার চেষ্টা করা উচিত।

৮. ফলমূল

কমলা, পেয়ারা, কলা, আপেল, পেঁপে ও অন্যান্য মৌসুমি ফল খাবারের তালিকায় রাখা যেতে পারে। ফল থেকে বিভিন্ন ভিটামিন, মিনারেল ও ফাইবার পাওয়া যায়। তবে ফলের জুসের চেয়ে গোটা ফল খাওয়া সাধারণত ভালো।

৯. পূর্ণ শস্য ও স্বাস্থ্যকর শর্করা

লাল চাল, আটার রুটি, ওটস, আলু ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর শর্করাযুক্ত খাবার শরীরকে শক্তি দেয়। গর্ভাবস্থায় শুধু প্রোটিন নয়, পর্যাপ্ত শক্তি ও বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানের ভারসাম্যও গুরুত্বপূর্ণ।

গর্ভাবস্থায় কোন পুষ্টি উপাদানগুলো বেশি গুরুত্বপূর্ণ?

আরোও পড়ুন:পড়া মনে রাখার কার্যকরী ১০টি টিপস

প্রোটিন

প্রোটিন শিশুর বৃদ্ধি ও শরীরের বিভিন্ন টিস্যু তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ। ডিম, মাছ, মাংস, দুধ, দই, ডাল, ছোলা ও বাদাম থেকে প্রোটিন পাওয়া যায়।

আয়রন

গর্ভাবস্থায় মায়ের শরীরে অতিরিক্ত রক্ত তৈরির প্রয়োজন হয়। আয়রনের ঘাটতি হলে রক্তস্বল্পতা হতে পারে। মাংস, ডাল, শিমজাতীয় খাবার ও আয়রনসমৃদ্ধ খাবার থেকে আয়রন পাওয়া যায়।

ফোলিক অ্যাসিড

গর্ভাবস্থার শুরু থেকেই ফোলিক অ্যাসিড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি শিশুর মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক বিকাশে ভূমিকা রাখে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ফোলিক অ্যাসিড সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

ক্যালসিয়াম

শিশুর হাড় ও দাঁতের বিকাশের জন্য ক্যালসিয়াম গুরুত্বপূর্ণ। দুধ, দই, পনির, কিছু মাছ এবং সবুজ শাকসবজি ক্যালসিয়ামের উৎস হতে পারে।

বেশি খাবার খেলেই কি বাচ্চার ওজন বাড়বে?

না। গর্ভাবস্থায় শিশুর ওজন ও বৃদ্ধি শুধু খাবারের ওপর নির্ভর করে না। মায়ের সামগ্রিক পুষ্টি, গর্ভাবস্থার অবস্থা, প্লাসেন্টার কার্যকারিতা, শিশুর বৃদ্ধি এবং অন্যান্য চিকিৎসাগত বিষয়ও ভূমিকা রাখতে পারে।

WHO-এর তথ্য অনুযায়ী, পর্যাপ্ত শক্তি ও প্রোটিনসহ সুষম খাদ্য বিশেষ করে অপুষ্টিতে থাকা গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে ভ্রূণের বৃদ্ধি ও জন্মের ওজন উন্নত করতে সহায়তা করতে পারে। তবে অতিরিক্ত মাত্রায় শুধু প্রোটিন খাওয়া উপকারী নয় এবং উচ্চ-প্রোটিন সাপ্লিমেন্ট নিজের ইচ্ছায় নেওয়া উচিত নয়।

গর্ভাবস্থায় কী কী খাবার এড়িয়ে চলবেন?

গর্ভাবস্থায় কাঁচা বা অপর্যাপ্ত রান্না করা মাংস, মাছ বা ডিম এবং অনিরাপদ/অপাস্তুরিত কিছু খাবার এড়ানো গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও অস্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত খাবারও কম খাওয়া উচিত।

বাচ্চার ওজন কম মনে হলে কী করবেন?

আল্ট্রাসাউন্ড বা চিকিৎসকের পরীক্ষায় শিশুর ওজন কম বা বৃদ্ধি প্রত্যাশার তুলনায় ধীর মনে হলে নিজের ইচ্ছায় অতিরিক্ত খাবার বা প্রোটিন পাউডার খাওয়া উচিত নয়। গর্ভাবস্থায় নিয়মিত চেকআপ করা এবং চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যতালিকা ঠিক করা সবচেয়ে নিরাপদ।

WHO গর্ভাবস্থায় স্বাস্থ্যকর খাবার, পর্যাপ্ত পুষ্টি এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আয়রন ও ফোলিক অ্যাসিড গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেয়।

মনে রাখবেন: শিশুর ওজন নিয়ে উদ্বেগ থাকলে শুধু খাবারের ওপর নির্ভর না করে গাইনি চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অজানা নেটওয়ার্কে আপনার মূল্যবান মতামত জানাতে নিচে কমেন্ট করুন। আপনার প্রতিটি মতামত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ;

comment url